কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মান গুদামের শেড ভেঙে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬। দুর্ঘটনাস্হলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলেছে উদ্ধার কাজ। গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং র্যাডার এনে দু-তিনটি অংশ চিহ্নিত করে সেখানে কেউ আটকে আছেন কিনা, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। মানুষের অস্তিত্ব নেই বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই জোরকদমে ধ্বংসস্তুপ সরানো বা অ্যাগ্রেসিভ কাটিং-এর কাজ শুরু হবে। তবে, এখনও কয়েকজনের খোঁজ মেলেনি বলে জানা যাচ্ছে। এখনো দুটি দেহের পরিচয় মেলেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুমান ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক ঘটনাস্হলে কাজ করছিলেন। তবে, সরকারী নথি না থাকায় কতজন উপস্হিত ছিলেন তা অবশ্য জানা যাচ্ছে না। সেনা বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড, উন্নত যন্ত্রপাতি এবং অ্যাম্বুলেন্স সহ ৭-টি বিশেষ দল ঘটনাস্হলে রয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ১০ শয্যার একটি জরুরী চিখিৎসা কেন্দ্রও।
তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউনের শেড ভেঙে পড়ার ঘটনায় রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে পূর্ব রেলের পক্ষ থেকেও উদ্ধার কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ ডিভিশন এবং লিলুয়া ওয়ার্কশপের উদ্ধারকারী দল গতকাল কাজে যোগ দিয়েছে বলে রেল সূত্রের খবর।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং NDRF-এর ব্যাটালিয়নের সঙ্গে নিখুঁত সমন্বয় রেখে, পূর্ব রেলের ৭০ সদস্যের একটি দল উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রেলের তরফে ১০টি অক্সি-কাটার, ৬টি অ্যাগ্রেসিভ কাটার এবং ৩টি প্লাজমা কাটিং ইউনিট কাজে লাগানো হয়েছে।
এদিকে, ওই ঘটনায় ধৃত কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি কালীচরণ ব্যানার্জীকে গতকাল চৌঠা জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল আদালতে জানান, টাকার বিনিময়ে ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান পাশ করাতেন কালীচরণ। ভুলে ভরা নকশা পাশ করানোর ক্ষেত্রে ভুয়ো নথিও তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
কারা এই কাজে কালিচরণকে সহযোগিতা করতেন তা জানতে সিট তদন্ত চালাচ্ছে।
তারাতলার মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যাতে আগামী দিনে আর না ঘটে, সেজন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক গুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। কত উঁচু বাণিজ্যিক বহুতল নির্মাণ বন্ধ রাখতে হবে গতকাল তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আপাতত ছয়তলা বা তার বেশি উঁচু যে বহুতলগুলির নির্মাণ কাজ চলছে, আগামী একমাস তা বন্ধ রাখতে হবে। তবে কোনও বাড়ির নকশা যদি ত্রুটিহীন থাকে তাহলে তাকে অবিলম্বে কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়া হবে।
কলকাতা ময়দানে পূর্ত দপ্তরের টেন্টে গতকাল এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতা পুরসভার সঙ্গে বিধাননগর, রাজারহাট-নিউটাউন এলাকা, এনকেডিএ,পুজালি, বজবজ, মহেশতলা, দক্ষিণ দমদম, বরানগর, কামারহাটি, হাওড়া ও বালি পুরসভার অঞ্চলে যে বাড়িগুলি গঙ্গার ধারে গড়ে উঠছে, সেগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশিকা বলবৎ হবে। এই বিধিনিষেধের মধ্যে বসতবাড়ি পড়ছে না। কেউ যদি আইনমাফিক নিজের বসতবাড়ি সংস্কার করেন বা তার কাঠামোর পরিবর্তন করতে চান তাহলে কাজ বন্ধ রাখতে হবে না। এছাড়া সরকারি প্রকল্প, রেল, মেট্রোরেল বা বন্দরের কাজও যথারীতি চলবে।
এদিকে, তারাতলা কাণ্ডে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের যে অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারাই সবকিছু খতিয়ে দেখবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। এই কমিটি যে বাড়িগুলির নক্সায় বড় ধরনের গলদ পাবে, তাদের প্ল্যান বাতিল করে দেওয়া হবে। যে বাড়িগুলির নক্সায় সামান্য ত্রুটি থাকবে, তাদের প্ল্যান সংশোধন করতে বলা হবে এবং যে বাড়িগুলির প্ল্যান ত্রুটিমুক্ত তারা পয়লা অগাস্ট থেকে ফের কাজ শুরু করতে পারবে। একইসঙ্গে এই কমিটি বহুতল বাড়িগুলিতে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো ঠিক আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখবে ।