রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীকে ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষনে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, উন্নয়নের সুফল যেন প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে উপলব্ধ হয়। তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় একটাই লক্ষ্য ছিল, তা হলো স্বদেশের স্বাধীনতা। স্বদেশী আন্দোলন চলাকালীন বন্দেমাতরম গানটি জনগণের সঙ্গীতে পরিণত হয়। মহাত্মা গান্ধী ও বাবা সাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকারের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁরা সমাজ সংস্কার ও দেশভক্তির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
আজ ১৪ই আগস্ট দিনটি দেশের সর্বত্র বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। শ্রীমতি মূর্মু, আজ তাঁর ভাষনে দেশভাগের দুর্বিষহ স্মৃতির কথা তুলে ধরে সেই সময় যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, দেশভাগের সময়ের সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাঁদের অনেকের মনে গেঁথে রয়েছে। বীভয়স অত্যাচার সত্ত্বেও তাঁরা কখনো আত্মপরিচয় বিসর্জন দেননি।
রাষ্ট্রপতি এদিন সংবিধানের প্রতি জনগণের দায়বদ্ধতার কথা আরো একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনতার অংশগ্রহণ, দেশের গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। মর্যাদা ও সুযোগের বৈষম্য দূর করা এবং ব্যক্তির আত্মসম্মানকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সংবিধান আমাদের পথ দেখিয়েছে।
সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে এগিয়ে চলার প্রসঙ্গে আজ তিনি মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলে এবং সাবিত্রী ফুলের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তাঁরা, বঞ্চিত মানুষকে সমাজের উচ্চস্তরে তুলে আনার জন্য অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। রাষ্ট্রপতি, বৈষম্য দূর করার প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন যোজনার মাধ্যমে ২৫ কোটিরও বেশী মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মুর্মু বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার সাফল্যের ওপর। তিনি বলেন, যে ৫৯ কোটি মানুষ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতাধীন হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৩২ কোটি গ্রাহক-ই মহিলা। তিনি আজ আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, কিষান সম্মান নিধি ও কিষান ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি, বিশেষভাবে ডিজিটাল ক্ষেত্রে দেশের উন্নতির কথা স্মরণ করেছেন। বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষকে ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। ছোট ছোট দোকানদাররাও এখন এই পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেনে অভ্যস্ত বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
দেশের অর্থনীতি এখন গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতির তুলনায় দ্বিগুন হারে বাড়ছে। ভারতই বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে সর্বাধিক বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের মাধ্যমে দেশের প্রগতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সঙ্গেই সুস্থায়ী উন্নয়নের চিন্তাভাবনা দেশের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছে। তিনি বলেন, সুস্থায়ী উন্নয়নই দেশের লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ফের একবার ‘এক পেড় মা কে নাম’ এবং ‘Lifestyle for environment’-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মহিলাদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আজকের ভাষনে রাষ্ট্রপতি ‘ড্রোন দিদি’ এবং স্বনির্ভর প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেন। এ ব্যাপারে তিনি কমনওয়েলথ গেমসে মহিলা ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের উচ্চ প্রশংসা করেছেন। সরকারের ব্যবস্থাপনায় লাখপতি দিদি ও মূদ্রা যোজনায় নারীশক্তির অংশগ্রহনের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আজ সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেন, ছাত্র ছাত্রীরা দেশের ভবিষ্যৎ। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পড়ুয়াদের ভবিষ্যতকে নিষ্কন্টক করতে হবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে সচেষ্ট।
শ্রীমতি মুর্মু, গত ২৬ শে জুলাইয়ের কার্গিল বিজয় দিবস এবং ৭ই মে-র অপারেশন সিন্দুরের বর্ষপূর্তি বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য বলে মনে করেন। দেশের বহির্শত্রুর মোকাবিলা করার পাশাপাশি এদিন তিনি অভ্যন্তরীন বিপদ সম্পর্কেও সচেতন করে দিয়েছেন। তিনি নকসালবাদ অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রসঙ্গ-ও উল্লেখ করেছেন।
আজকের ভাষনে রাষ্ট্রপতি ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।