রাজ্য সরকার দীর্ঘ জটিলতা শেষে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে BSF-এর হাতে বকেয়া জমি হস্তান্তর শুরু করেছে।
নবান্নে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জমি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের ‘অসহযোগিতা’র কারণেই সীমান্ত সুরক্ষা দীর্ঘদিন বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দু’সপ্তাহের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বেড়া নির্মাণ, দেশের নিরাপত্তা এবং রাজ্যের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুভেন্দু বাবু আরো জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে প্রায় ২’হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্ত। বর্তমানে প্রায় ১’হাজার ৬০০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও, প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিং বাকি রয়েছে। এর মধ্যে আপাতত ২৭ কিলোমিটার এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় জমি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ কিলোমিটার ফেন্সিং এলাকা এবং আরও ৯ কিলোমিটার বর্ডার আউটপোস্ট ও BSF পরিকাঠামো তৈরির জমি। তিনি বলেন, জমি ক্রয়ের সম্পূর্ণ অর্থ ভারত সরকার এবং BSF দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে দীর্ঘদিন কোনও সমন্বয় বৈঠক হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জেলা প্রশাসন, বিএসএফ, রাজ্য পুলিশ, কাস্টমস-সহ বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে নিয়মিত সমন্বয়ে বৈঠক শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত BSF-এর মহা নির্দেশক প্রবীণ কুমার রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় কাজ করতে গিয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল। নতুন সরকারের আমলে সেই সহযোগিতা মিলছে।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন-CAA মেনে রাজ্য থেকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া, আজ থেকেই শুরু হচ্ছে।
নবান্নে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য BSF-কে জমি হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি BSF-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী BDR-এর সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ- ‘ডিটেক্ট-ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ এই পদ্ধতিতে কাজ হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। রাজ্যের সীমান্তবর্তী থানাগুলিকে এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ১৪ই মে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে BSF-এর হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার, সেই আইন কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা CAA-এর আওতায় থাকা সাতটি সম্প্রদায়ের মানুষ, যাঁরা ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে ভারতে এসেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না বলেও জানান তিনি।