উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতিদের গুলিতে বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল সিট গঠন করেছে রাজ্য পুলিশ। আই জি, সিআইডি-র তত্বাবধানে তারা কাজ করবে। সিটের অন্য সদস্যদের মধ্যে আছে সি আই ডি, এস টি এফ ও রাজ্য পুলিশের আই বি-র আধিকারিকরা।
এদিকে, এই খুনের ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে আরও কেউ এই ঘটনায় জড়িত কিনা তাঁর খোঁজ চলেছে।
ফরেন্সিক ও সি আই ডি-র দল আজ ঘটনাস্হলে যায়। সেখান থেকে তারা বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে।
অন্যদিকে, বারাসাত হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর চন্দ্রনাথের দেহ সন্ধে ৬-টা নাগাদ পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডীপুরের কুলুক গ্রামে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। বিজেপি বিধায়ক, সাংসদ ছাড়াও অসংখ্য মানুষ পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানান। আজই সেখানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
এই হত্যা কান্ডে শিলিগুড়ির নম্বর প্লেট লাগানো একটি গাড়ি ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। ছিল ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো একটি মোটরবাইকও। গাড়ি ও বাইকে করে আসা দুষ্কৃতিরা প্রথমে চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকে দেয়। পরে খুব কাছ থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি চালানো হয় । সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৬ ঘণ্টা ধরে গাড়িটি সেখানে অপেক্ষা করছিল। ঘটনাস্হল থেকে গুলির খোলও উদ্ধার করা হয়েছে। শিলিগুড়ির যার নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল, উইলিয়াম যোশেপ নামে মাটিগাড়ার ওই বাসিন্দা জানিয়েছেন, সপ্তাহ দু আগে তিনি গাড়ি বিক্রির জন্য অন লাইনে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই বিজ্ঞাপন থেকেই দুষ্কৃতিরা গাড়ির নম্বর সংগ্রহ করে ভুয়ো নম্বর প্লেট করে থাকতে পারে বলেও তাঁর অনুমান।
অন্যদিকে, যে বাইকটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তার মালিকের ঠিকানা আসানসোল দক্ষিণের বার্ণপুরে। কিন্তু ওই ঠিকানায় বিভাস ভট্টাচার্য নামে কেউ থাকেন না বলে স্হানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
আগেই জানানো হয়েছে, গতরাতে বিধানসভায় কাজ সেরে গাড়ি করে মধ্যমগ্রামে বাড়ি ফেরার পথে, দোহারিয়া এলাকায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারান শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। তার গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা আঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।