পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দফতরে হওয়া অনিয়ম, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার খতিয়ান প্রকাশ্যে আনতে আগামী দিনে প্রতিটি দফতরের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। বিধানসভায় রাজ্য বাজেটের ওপর দুদিনের আলোচনা শেষে জবাবি ভাষণে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এ কথা বলেন। তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক অভিযোগ নয়, প্রতিটি দফতরই নথি-সহ জানাবে কোথায় কী অনিয়ম এবং তার জেরে রাজ্যের কী ক্ষতি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর দাবি, বাজেট বিতর্কে বিভিন্ন বিধায়কের বক্তব্যে মালদা বিমানবন্দর, শিল্পপার্ক, কলকাতার জলাভূমি, নিয়োগ, সাইবার অপরাধ, ভুয়ো তফসিলি জাতি ও উপজাতি শংসাপত্র থেকে শুরু করে সুন্দরবনের উন্নয়ন সহ একাধিক ক্ষেত্রে আগের সরকারের আমলে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। সেই কারণেই প্রতিটি দফতরকে পৃথকভাবে নিজেদের কর্মকাণ্ডের হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
বাজেট নিয়ে আলোচনার জবাবী ভাষণে অর্থমন্ত্রী নতুন কিছু প্রকল্পের কথাও জানান।
এর আগে বিধানসভায় রাজ্যে বাজেট নিয়ে দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বাজেটের একাধিক ইতিবাচক দিকের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের মোট ব্যয়ের বড় অংশ বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে চলে যাওয়ায় উন্নয়নমূলক খাতে বরাদ্দ বাড়াতে রাজস্ব বৃদ্ধির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আইসিডিএস কর্মীদের সম্মানিক বৃদ্ধি, চা বাগানের ল্যান্ড সিলিং ৩০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত এবং চা পর্যটনের সম্ভাবনাকে তিনি সমর্থন জানালেও পর্যটন খাতে আরও বরাদ্দ, প্যারা-টিচার ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং প্রাক্তন বিধায়কদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিও জানান।
তৃণমূল কংগ্রেসের অপর ব্লকের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট এবং ঋণের বোঝা সত্ত্বেও বর্তমান বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
দুদিনে ৭০ এর বেশি বিধায়ক বাজেট বিতর্কে অংশ নেন। আলোচনার শেষে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের বাকি আট মাসের বাজেট প্রস্তাব বিধানসভায় গৃহীত হয়।