June 25, 2026 1:52 PM

printer

দেশজুড়ে আজ ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালিত হচ্ছে।

দেশজুড়ে আজ ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালিত হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ সংবিধানের ৩৫২ নম্বর অনুচ্ছেদের অনুযায়ী ‘জাতীয় ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছিলেন। কারণ হিসাবে অভ্যন্তরীণ অশান্তির কারণে দেশে সঙ্কটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের সংবিধানকে অবজ্ঞা করে যেভাবে জরুরি অবস্থার সময় দেশের জনগণের উপর সীমাহীন দমন-পীড়ন করা হয়েছিল তাঁকে স্মরণ করতে এবং সেই সব নিপীড়িত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই দিনটিকে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

জরুরি অবস্থা জারির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী যে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, নতুনদিল্লিতে আজ তার সমাপ্তি অনুষ্ঠান। এই উপলক্ষ্যে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ ও ‘গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক’  শীর্ষক প্রদর্শনীর পাশাপাশি ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও প্রদর্শিত হবে। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।

 উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন, ১৯৭৫ সালের জরুরী অবস্থার সময় যারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সময়কাল, সাংবিধানিক মূল্যবোধের এক কঠিন সময় বলে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।

   প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ জরুরী অবস্থাকে ‘ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়’ বলে বণর্ণা করে, সেসময়ে যারা এর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সেসময় অসংখ্য নাগরিক, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় একত্রে লড়াই করেছিলেন।   

   কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, জরুরী অবস্থা চলাকালীন যারা তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে ১৯৭৫-এর ২৫শে জুন একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ক্ষমতার লোভ ও দম্ভ এবং কংগ্রেস দলের সংবিধান, সংবাদমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণ ধংস করে দেওয়ার ইতিহাসরূপে এই সময় চিহ্নিত হয়ে থাকবে।   

 উল্লেখ্য, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিচার বিভাগীয় কিছু ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল, যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সরকারের বৈধতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। রাজ্যগুলোর ওপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হয়। জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর সংবিধান স্বীকৃত বেশ কিছু রক্ষাকবচ নিষিদ্ধ করা হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ ও এমনকি চলাফেরার স্বাধীনতার উপরেও বিধি নিষেধ আরপ করা হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উপরেও হস্তক্ষেপ করা হয়। এমনকি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বিধিবদ্ধ সংস্থা ‘প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’-কেও বিলুপ্ত করা হয়।