কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি বা পি এম কিষান প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬-২৭ থেকে বাড়িয়ে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত করার বিষয়ে অনুমোদন করেছে। নতুন দিল্লীতে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো বলেন, পরবর্তী ৫ বছর এই প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ৩ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। এই অনুমোদনের মধ্যে দিয়ে কৃষকদের কল্যাণই যে দেশের অগ্রগতির মূল ভিত্তি সে বিষয়ে সরকারের দায়বদ্ধতার দিকটি সুনিশ্চিত হয়েছে। শ্রী বৈষ্ণো বলেন, পি এম কিষান প্রকল্পে যোগ্য কৃষক পরিবারগুলির কাছে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তরের মাধ্যমের সময়মতো এবং স্বচ্ছ উপায়ে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ২৩ দফায় ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশী কৃষকদের ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেছে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, পি এম কিষান প্রকল্পের অর্থের সাহায্য কৃষকরা সময়মতো বীজ, সার, সেচ, কৃষি যন্ত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে পারছেন।
এদিকে, শক্তিসঞ্চয় ব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে পরিণত করার জন্য দেশে ভাসমান প্যানেলের ব্যবহার বাড়াতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী সূর্য সরোবর যোজনা অনুমোদন করেছে। মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো বলেন, এই প্রকল্পের জন্য মোট ৫ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছর মেয়াদে দেশের জলাশয়, খাল ও শিল্পাঞ্চলের পুকুরগুলিকে কাজে লাগিয়ে ৫হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ভাসমান সৌর প্যানেল বসানো হবে। এর সঙ্গে মোট ১০হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টার শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থাও যুক্ত থাকবে। অতিরিক্ত কোনো জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই বিদ্যমান জলাধারগুলির বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধিই এই বিশেষ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
দেশে জ্বালানী সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত জাতীয় অফশোর এক্সপ্লোরেশন প্রকল্প সমূদ্র মন্থনের জন্য ৮৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। শ্রী বৈষ্ণো বলেন, এই প্রকল্পটি সমূদ্রবক্ষে অনুসন্ধান চালানোর জন্য সমগ্র ভ্যালু চেইনকে বিস্তৃত করার কাজকে আরো প্রসারিত করবে।
অন্যদিকে, খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্প এবং জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনে সহায়তার কাজ আগামী ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ছাড়পত্র দিয়েছে। নতুন দিল্লীতে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো বলেন,দেশে ক্রীড়া ক্ষেত্রে যুবাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এই সিদ্ধান্ত। প্রতিটি তরুণ খেলোয়াড় যাতে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য সুযোগ সুবিধা পায় তাও সুনিশ্চিত হবে। তৃণমূল স্তর থেকে টার্গেট পোডিয়াম অলিম্পিক পর্যন্ত সমস্ত প্রশিক্ষণ ও সুবিধা দিতে এই প্রকল্প সারা ভারতে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও মন্ত্রী জানান।