কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, এই মন্তব্যের জন্য রাহুল গান্ধীকে লোকসভায় ক্ষমা চাইতে হবে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি রাহুল গান্ধীর করা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া হট্টগোল ও হইচইয়ের জেরে লোকসভার অধিবেশন বেলা ৩-টে পর্যন্ত মুলতুবি করা হয়েছে।
এর আগে, পাবলিক এক্সামিনেশনস প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স সংশোধনী বিল, ২০২৬ পাসের জন্য লোকসভায় পুনরায় আলোচনা শুরু হয়। বিলটি ২০২৪ সালের মূল পাবলিক এক্সামিনেশনস প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স আইন–কে সংশোধন করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে।
এই আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা। পাশাপাশি, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই আইন প্রতিটি রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে শুনানির জন্য বিশেষ ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ গঠন করার নির্দেশ দেয়। বিলে আরও বলা হয়েছে, থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ার তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে সেই সংক্রান্ত তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। চার্জশিট দাখিলের তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। উল্লেখ্য, গতকাল বিলটি উত্থাপন করেন কর্মীবর্গ, জনঅভিযোগ ও পেনশন বিষয়ক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. জীতেন্দ্র সিং।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জেডিইউ (JDU) সাংসদ দিলেশ্বর কামাইত সংসদে এই বিলটি পেশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিলটি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এক সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে লোকসভার বিরোধী দল নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিট-ইউজি পরীক্ষা পরিচালনায় যে অর্থ ব্যয় হয়, তা দেশের শিক্ষা বাজেটের চেয়েও বেশি। শ্রী গান্ধী বলেন, নিট ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের উদ্দেশ্য হিংস্রতা বা ঘৃণা ছড়ানো ছিল না, বরং তা ছিল তরুণদের গভীর ক্ষোভের প্রকাশ। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের উচিত তাঁদের এই ভাবনাকে সম্মান জানানো।