August 12, 2026 8:15 PM

printer

কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত কাউন্সিলরের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার লক্ষ্যে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইন, ১৯৮০-র সংশোধনী বিল বিধানসভায় আজ গৃহীত হয়েছে। 

কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত কাউন্সিলরের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার লক্ষ্যে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইন, ১৯৮০-র সংশোধনী বিল বিধানসভায় আজ গৃহীত হয়েছে।  ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংখ্যার পরিবর্তন, বসতির বিস্তার, ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং পুরসভার প্রশাসনিক প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে এই সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।

বিল নিয়ে বিধানসভায় আলোচনায়  অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে জানান, এ দিনের বিলের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভার আসন সংখ্যা ১৪৪ থেকে ২০৯ করা। ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ বা পুনর্বিন্যাসের দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। তিনি বলেন, কমিশন খসড়া প্রকাশ করবে, দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে, সর্বদলীয় বৈঠক  এর পরেই চূড়ান্ত ওয়ার্ড তালিকা প্রকাশ করা হবে। তাই সরকার নিজের মতো করে ওয়ার্ডের মানচিত্র তৈরি করছে— এমন অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।

  জবাবি ভাষণে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, বর্তমানে কলকাতার বহু ওয়ার্ডে জনসংখ্যার মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য তৈরি হয়েছে। কোথাও প্রায় ৮০ হাজার মানুষ, আবার কোথাও মাত্র ১৮ হাজার বাসিন্দা রয়েছেন। ফলে সমানভাবে নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে ও প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের  প্রয়োজন । সেই কারণেই কাউন্সিলরের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব আনা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুরসভার পরিকাঠামো ও আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। নিকাশী ব্যবস্থার উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও জল জমার সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি। পুরসভার নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতাও কমেছে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। ওয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরবর্তী পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে ।

বিলের বিরোধিতা না করলেও কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয়ে সংশোধনের দাবি তুলেছে বিরোধী শিবির। প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম দাবি করেন, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা আরও বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডভিত্তিক জনশুনানির আয়োজন করে নাগরিকদের মতামত নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

এর আগে  হাওড়া পুর নিগম সংশোধনী বিল ধ্বনি  ভোটে পাশ হয়।   বিলের ওপরে আলোচনার জবাবি ভাষণে পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, সেখানকার অর্থনৈতিক অবস্থা, ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং জনসংখ্যার নিরিখে বিভিন্ন ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করা হল। রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বৈঠকের পরেই হাওড়াতে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। পুরমন্ত্রী আরো জানান, নাগরিক পরিষেবাকে গুরুত্ব দিয়ে হাওড়া পুরনিগম এলাকার উন্নয়নে রাজ্য সরকার একটি মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনায় প্রধানত রাস্তা, নিকাশী এবং পানীয় জলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর অংশ হিসাবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ৪৬২ কোটি টাকা খরচ করে হাওড়ার শালকিয়ায় একটি পানীয় জল পরিশোধন কেন্দ্র তৈরি করা হবে।

গত দেড় দশকে হাওড়াতে অবৈধ নির্মাণ সহ প্রচুর অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করে পুরমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালের পর সেখানে হাওড়া পুর নিগমে কোন নির্বাচন না হওয়ায় এলাকা উন্নয়ন খাতে কেন্দ্রের পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২০০ কোটি টাকা পাওয়া যায়নি।  ফলে নাগরিকরা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। হাওড়া পুর নিগম এলাকায় বস্তিবাসীদের জন্য রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ফ্ল্যাট বাড়ি বানিয়ে দেবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আলোচনার সূত্রপাত করে তৃণমূল কংগ্রেসের কানাইয়ালাল আগারওয়াল বিলের বিরোধিতা করে বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে সেখানকার ১৩’টি ওয়ার্ডকে বিন্যাস করে ৩১ করা হয়েছে। অন্যদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায় এবং অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্টের নওশাদ সিদ্দিকী আলোচনায় অংশ নেন।