কলকাতার তারাতলায় গোডাউনের শেড ভেঙে বিপর্যয়ের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১। আহতের সংখ্যা ১৯। এসএসকেএম হাসপাতালে তাদের চিকিত্সা চলেছে।
এদিকে, গতকাল দুপুরে এই দুর্ঘটনার পর যুদ্ধাকালীন তত্পরতায় উদ্ধারকাজ চললেও আজ দুপুরের ঝড় বৃষ্টিতে তা ব্যাহত হয়। বজ্রপাতের জন্য দীর্ঘক্ষণ হাইড্রলিক ক্রেন ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ঐ গুদামে কতজন কাজ করছিলেন, পুলিশ তার কোনো সঠিক হিসাব পায়নি।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব রাজেশ পান্ডে এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। এছাড়াও আছেন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব খলিল আহমেদ, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ কুমার সিনহা, কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা, পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডে সহ আরও ১১ জন। কমিটি সাত দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে তাদের রিপোর্ট পেশ করবে।
এদিকে, তারাতলার ঘটনায় পুলিশ গতকালই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। মোট পাঁচ জনের নাম ছিল এফআইআর-এ। তাঁদের মধ্যে প্রধান ঠিকাদার আসগর হুসেনের মরদেহ আজ সকালে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরও পাঁচ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে, বিশেষ তদন্তকারী দল – সিট, বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের কন্ট্রলিং অফিসার কালি চরণ ব্যানারজি কেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আটক করেছে।
কলকাতা পুরসভার কাছ থেকে তারাতলার ঘটনায় তথ্য এবং নথি চেয়েছে লালবাজার। পুর আধিকারিকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল’ থেকে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন শ্রী মোদী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ এবং আহত প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেন। তিনি আজ তারাতলার ঘটনায় বিধানসভায় আজ বিবৃতি দেন। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত কলকাতা পুর বোর্ডকে দায়ী ক’রে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই-সহ বিভিন্ন নথির উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট সরকারের হাতে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।