বাংলাদেশে, গত রাতে পুলিশের উপস্থিতিতেই রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। ৩২ নম্বর ধানমন্ডির জাদুঘরটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত বাসভবন ছিল। বিক্ষোভকারী জনতা প্রথমে রাত সাড়ে আটটায় জাদুঘরে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েক ঘন্টা ধরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ অব্যাহত থাকে এবং রাত ১১টার পর জনতা একটি খননকারী যন্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। এর আগে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ সংক্রান্ত দপ্তরের যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন বলেন যে তারা মুজিব স্মৃতি জাদুঘর এবং এর আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেছিলেন তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে পুলিশ মিছিলে যাতায়াতকারীদের জন্য কোনও বড় বাধা সৃষ্টি করেনি।
ঢাকায় হাসিনার প্রয়াত স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার বাসভবন সুধা সদনেও আরেকটি দল আগুন ধরিয়ে দেয়। রাজধানীর বিক্ষোভ অন্যান্য জেলাতেও একই ধরণের কর্মকাণ্ডের সূত্রপাত করে। খুলনায় হাসিনার আত্মীয়দের শেখ বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। তাছাড়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়া এবং সিলেট সহ জেলাগুলিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি এবং শেখ পরিবারের সাথে সম্পর্কিত স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের আগে অসহযোগ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল মুজিব বাসভবন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মুজিব এবং তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে এই বাড়িতেই হত্যা করা হয়। হাসিনার আমলে, বাড়িটিকে পরবর্তীতে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়, যেখানে মুজিব পরিবারের ঐতিহ্য এবং নিদর্শন সংরক্ষণ করা হয়।বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন ধরিয়ে দিয়েছে একদল উত্তেজিত জনতা। গতকাল সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভ এবং বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবিতে হামলাকারীরা জোরপূর্বক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ধ্বংসাত্মক তাণ্ডব শুরু করে।
এর আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর বাড়িটিতে হামলা চালানো হয়েছিল।
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলনকারীরা তার শৈশবের স্মৃতি ধ্বংস করছে, কিন্তু তার পরিবারের ইতিহাস কখনো মুছে ফেলতে পারবে না।