কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের ৮৬-তম বৈঠকের দ্বিতীয় তথা শেষ দিনে শুক্রবার দু’দেশের গঠিত কারিগরি কমিটি বৈঠকে বসেছে। কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে বাংলাদেশ থেকে আসা প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে ভারত সরকারের পাশাপশি এরাজ্যের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। গঙ্গার জলবন্টনের পাশাপাশি বিভিন্ন নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ পরিষেবার উন্নতির বিষয়ে একাধিক দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক সূত্র খবর, মহানন্দা নদীর উপর তৈরি বাঁধের কারণে তাদের দেশের কিছু নদীতে জল কমার প্রসঙ্গ বৈঠকে তুলেছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। তবে রাজ্যের তরফে পাল্টা যুক্তি ছিল — মহানন্দার বেশিরভাগ প্রবাহই এ দেশের অভ্যন্তরে প্রবাহিত। ফলে প্রবাহের হেরফের হতে পারে এখানকার নদীগুলিতে। বাংলাদেশের নদীগুলির প্রবাহে তেমন প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবু তা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যের তরফে পাল্টা জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের কিছু নদীর আশেপাশে বেশ কয়েকটি চিনিকল থাকায় দূষণের আশঙ্কা বাড়ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও। যদিও দীর্ঘদিনের ‘জট’ তিস্তার জনবন্টন নিয়ে এ দিন কোনও আচোলনা হয়নি বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। সূত্র জানাচ্ছে, আগামী বছরের শেষে তিস্তার জলচুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগে এ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা আগামী দিনে রয়েছে। জল বণ্টন ইস্যুতে নিজেদের সুপারিশ তৈরি করে নিজেদের দেশের সরকারের কাছে জমা দেবে যৌথ কমিটি। কমিটির সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই আগামী তিনমাসের মধ্যে গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে বলে জানা গেছে৷